অ্যালোভেরার ১৫ টি গুণাবলী ও উপকারিতা
অ্যালোভেরার ১৫ টি গুণাবলী ও উপকারিতা আজও বিজ্ঞান ও ঐতিহ্যের জগতে আমাদের এই
উদ্ভিদটি চমকিত করেই চলেছে। এই উদ্ভিদটি শুধু সৌন্দর্য চর্চার প্রসাধনী নয়, এটি
একটি সম্পূর্ণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ। যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা থেকে
মুক্তি দিতে পারে।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা অ্যালোভেরার ১৫ টি গুণাবলী সহ এর বিভিন্ন উপকারিতা
বিস্তারিত আলোচনা করব। শুধু অ্যালোভেরার গুণাবলীর তালিকা নয়, প্রতিটি গুণের
বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি এবং সর্তকতা নিয়েও আলোচনা করব।
পেজ সূচিপত্রঃ অ্যালোভেরার ১৫ টি গুণাবলী ও উপকারিতা
-
অ্যালোভেরার ১৫ টি গুণাবলী ও উপকারিতা
-
ত্বকের যত্নে এলোভেরার অবিস্মরণীয় ভূমিকা
-
চুলের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এলোভেরার যাবে
-
হজম শক্তি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে অ্যালোভেরার ভূমিকা
-
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এলোভেরার ভূমিকা
-
মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় অবদান
-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করণ
-
হৃদ যন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সম্ভাব্য ভূমিকা
-
ক্যান্সার প্রতিরোধে এলোভেরার সহায়ক উপাদান
-
মহিলাদের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যে বিশেষ অবদান
-
নিরাপদ ব্যবহার সতর্কতা ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
-
শেষ কথাঃ অ্যালোভেরার ১৫ টি গুণাবলী ও উপকারিতা
অ্যালোভেরার ১৫ টি গুণাবলী ও উপকারিতা
অ্যালোভেরার ১৫ টি গুণাবলী ও উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করলে, মনে হবে এটি যেন প্রকৃতির দেওয়া একটি সম্পূর্ণ হোম ফার্মেসি। হাজার বছর ধরে আয়ুর্বেদ, ইউনানী এবং প্রাচীন চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই সুকুলেন্ট উদ্ভিদ আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণাতেও তার ঔষধি গুণের স্বীকৃতি পেয়েছে। ত্বক, চুল, হজম তন্ত্র থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধের ভূমিকা সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত। অ্যালোভেরার উপকারীতার প্রথম এবং সর্বাধিক পরিচিত গুণ হলো ত্বকের যত্নে এর অসাধারণ ক্ষমতা ও ব্যবহার।
অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিক ময়শ্চারাইজার হিসেবে খুবই কাজ করে। যার রোদে পোড়া শুষ্কতা, একজিমা, কালো দাগ, ব্রণের দাগ এবং এমনকি হালকা পোড়া জায়গায় ব্যবহার করলে সবগুলো দাগই প্রায় ভালো হয়ে যায়। এতে থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান ব্রণ দূর করে এবং ব্রণের দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয় এতে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের ঝুলে যাওয়ার প্রক্রিয়া ধীর করে, বলি রেখা কমাতে সাহায্য করে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুন হল হজম শক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণ। অ্যালোভেরা জেল হজমে সহায়ক এনজাইমে সমৃদ্ধ। যার খাদ্যে পরিপাক ও পুষ্টি শোষণের সাহায্য করে থাকে। তবে এখানে একটি সতর্কতা জরুরী। অ্যালোভেরা পাতার হলুদ অংশ শক্তিশালী রেচক হিসেবে কাজ করে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্যে শুধুমাত্র পড়িশোধিত জেল অংশই ব্যবহার করা উচিত। আরেকটি গুণ হলো চুলের স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত স্কালপে এলোভেরা জেল মেসেজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
আরো পড়ুনঃ চিনা বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা
খুশকি দূর হয়ে যায় এবং চুলের গোড়া শক্ত হয়। এটি প্রাকৃতিকভাবে কন্ডিশনার হিসেবেও কাজ করে, চুলকে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে তোলে। অ্যালোভেরার গুনাবলীর তালিকায় আরো আছে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা, মুখ্যব্বরের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি। গবেষণায় দেখা গেছে যে, অ্যালোভেরা জেল ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে।
মাড়ির রোগ ও মুখের ঘা দূর করতে এলোভেরার জেল দারুন কার্যকরী। আর এতে থাকা ভিটামিন সি, ই ও বিটা ক্যারোটিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। দেহের ফ্রি ক্ষতিকর কোষগুলো দূর করে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। প্রকৃতির দেওয়া এই অমূল্য উপহারটিকে সচেতনভাবে ব্যবহার করলে তা আপনার সুস্থতার পথে এক অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে উঠবে।
ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার অবিস্মরণীয় ভূমিকা
অ্যালোভেরার গুনাবলির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল স্বীকৃত হলো ত্বকের জন্য এর অবদান। এলোভেরা জেল একটি শক্তিশালী ময়েশ্চারাইজার। যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে আর্দ্রতা ধরে রাখে। শুষ্ক, রুক্ষ ও ফাটা ত্বকের জন্য এটি মহা ঔষধ হিসেবে কাজ করে। শুধু তাই নয় এতে থাকা জিবারেলিন ও এক্সিন নামক হরমোন নতুন কোষ গঠনে উদ্দীপনা যোগায়। যা ক্ষতিগ্রস্ত ত্বককে দ্রুত জীবিত করে। এ কারণেই রোদে পোড়া ত্বক, হালকা পোড়া বা ঘষে লাল হয়ে যাওয়া স্থানে এলোভেরা জেল লাগালে তাৎক্ষণিক শীতল ও স্বস্তি দায়ক অনুভূতি আসে এবং জ্বালাপোড়া কমে যায়।
এছাড়া এলোভেরাতে বিদ্যমান অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও এনটি ফাংগাল বৈশিষ্ট্য ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারে ব্রণের দাগ ত্বকের লোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত তেল উৎপাদন কমে আসে। এটি নন কমেডি অর্থাৎ ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করেনা। ফলে ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য নিরাপদ। একজিমা এর মতো ত্বকের জটিল সমস্যায়ও অ্যালোভেরার প্রদাহ ও লাল্বাভাব কমাতে সহায়তা করে। গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে মুখের রং উজ্জ্বল করতেও অ্যালোভেরার ঝুড়ি নেই।
এতে থাকা এলাইন নামক উপাদান মেলানিন উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে। যা কালো দাগ, বয়সের ছাপ ও অতিরিক্ত রোদে পোড়া দাগ হালকা করতে পারে। সপ্তাহে দুই তিনবার তাজা অ্যালোভেরা জেল মুখে মাখলে ধীরে ধীরে ত্বক হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক পিএইচ ব্যালেন্স বজায় রাখে এবং ত্বকের ক্ষতিকর কোষ গুলোর বিরুদ্ধে কাজ করে।
ত্বককে বয়সের ছাপের হাত থেকে রক্ষা করে। সবশেষে এটি একটি প্রাকৃতিক মেকআপ
রিমুভার হিসেবে কাজ করে। মেকআপ তোলার সময় রাসায়নিক প্রোডাক্ট
ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। এলোভেরা জেল একটি কটন বলে নিয়ে
মুখে আলতো করে মেসেজ করে নিলে মেকআপ সহজে পরিষ্কার হয়ে যায় এবং সাথে সাথে ত্বক
পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি।
চুলের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরার জাদু
চুল পড়া, খুশকি, শুষ্কতা ও উজ্জ্বলতা হারানো এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অ্যালোভেরা একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক সমাধান। অ্যালোভেরার উপকারিতার মধ্যে চুলের যত্ন অন্যতম। এলোভেরা জেলে থাকা প্রটিওলাইটিক, এনজাইম, মাথার ত্বকের মরা কোষগুলিকে সরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে থাকে। যা ফলিকল বা চুলের গোড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার একটি প্রধান কারণ। নিয়মিত এলোভেরা জেল মাসাজ করলে রক্ত সংবহন উন্নত হয় এবং চুলের গোড়া শক্ত হয়।
ফলে চুল পড়া কমে যায়, খুশকি ও শুষ্কোর সমস্যায় অ্যালোভেরার কার্যকারিতা অপরিসীম। এর অ্যান্টিফাঙ্গাল ও এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুন খুশকি সৃষ্টিকারী ছত্রাকের বিস্তার রোধ করে। একই সাথে এটি স্কাল্প কে গভীরভাবে আদ্রতা সরবরাহ করে। এছারাও চুলের শুষ্কতা ও চুলকানি দূর করে থাকে। আপনি চাইলে এলোভেরা জেল এর সাথে এক চা চামচ লেবুর রস বা টি ট্রি ওয়েল মিশিয়ে স্কাল্পে লাগিয়ে রাখতে পারেন আধা ঘন্টা।
তারপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললে দারুন ফল পাবেন। চুলের প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে অ্যালোভেরার উপকারিতা অতুলনীয়। শ্যাম্পুর পর সামান্য অ্যালোভেরা জেল চুলের ডগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেললে চুল হয় মসৃণ, নরম ও সুন্দরভাবে সাজানো। এটি চুলের কাঠামো মজবুত করে, ভঙ্গুরতা রোধ করে।
এতে বিদ্যমান ভিটামিন এ, সি ও ই চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। এছাড়া রাসায়নিক চিকন চুল বা রং করার ফলে চুলের ক্ষতি হয় তা পূর্ণ উদ্ধারে অ্যালোভেরা সাহায্য করে থাকে। এটি চুলের কুন্ডলী বা স্কাল্প পুনর্জীবিত করে এবং ফ্রিজি হেয়ার নিয়ন্ত্রণে রাখে। চুলের জন্য তৈরি যে কোন হেয়ার প্যাকে এলোভেরা জেল যোগ করলে তার গুণমান বহু গুণে বেড়ে যায়।
হজম শক্তি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে অ্যালোভেরার ভূমিকা
অ্যালোভেরা শুধু সৌন্দর্যের সীমাবদ্ধ নয়, একে আমাদের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যর জন্য উপকারী। বিশেষ করে হজম তন্ত্রের জন্য এটি খুবই উপকারী। অ্যালোভেরা জেল বা রস হজমের সহায়ক বিভিন্ন এনজাইমে সমৃদ্ধ যা প্রোটিন ও চর্বি কমাতে সাহায্য করে এবং খাদ্য থেকে পুষ্টি শোষণ বৃদ্ধি করে থাকে। যারা এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাদের জন্য অ্যালোভেরা রস একটি প্রাকৃতিক এন্টাসিড হিসেবে কাজ করে থাকে। অ্যালোভেরায় উপস্থিত গ্লুকোমান নামক ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকর।
এটি অন্ত্রের চলাচল স্বাভাবিক করে এবং মল নরম করতে সাহায্য করে। ফলে পাইলস বা অর্শের মতো সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে এটি ডায়রিয়ার কারণও হতে পারে। তাই শুরুতে অল্প পরিমাণে গ্রহণ করাই উত্তম। ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এলোভেরা দুটি প্রধান ভূমিকা রয়েছে। প্রথমে এটি বিপাক ক্রিয়া করার মতো করে। দ্বিতীয়ত অ্যালোভেরা জেল এর ফাইবার সমৃদ্ধ উপাদান পেট ভরা রাখার অনুমতি দেয় এবং অপ্রয়োজনীয় খুধা কমায় যা ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত অ্যালোভেরা গ্রহণে শরীরের চর্বি কমাতে সাহায্য করে থাকে। তবে হজমের জন্য এলোভেরা ব্যবহারের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো ব্লাডেক্স এরিয়ে চলা। এলোভেরা পাতার ঠিক নিচের হলুদ রঙের স্তরটি লেটেস্ট বা ল্যাব হিসেবে খুব শক্তিশালী এবং পেটে ব্যথা বা ক্লান্তির কারণ হতে পারে। তাই শুধুমাত্র স্বচ্ছ জেল টুকুই সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে হবে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অ্যালোভেরার ভূমিকা
অ্যালোভেরার যতগুলো উপকারিতা রয়েছে তার মধ্যে একটি হলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য ভূমিকা। বেশ কয়েকটি প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ও পরিমিত মাত্রায় এলোভেরা জেল বা রস গ্রহণে রক্তের গ্লুকোজ লেভেল উন্নত হতে পারে। অ্যালোভেরাতে উপস্থিত কিছু যৌগ ইন্সুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে থাকে এবং লিভারের গ্লুকোজ উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে থাকে। এটি ডায়াবেটিসের একটি সাধারণ জটিলতা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করে থাকে।
তবে এখানে একটি বড় সতর্কতা রয়েছে। ডায়াবেটিসের রোগীরা যদি এদের মধ্যেই ইনসুলিন বা অন্য কোন ব্লাড সুগার কমানোর ওষুধ গ্রহণ করেন। তাহলে এলোভেরা গ্রহনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অ্যালোভেরা যদি রক্তের শর্করা খুব বেশি কমিয়ে দেয়, তাহলে হাইপোগ্লাইজেনি এর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এটি কোনভাবেই চিকিৎসার বিকল্প নয়। বরং একটি পরিপূরক উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। নিয়মিত মাত্রায় গ্রহণ ও রক্তের শর্করা মনিটরিং নিরাপদ কাজে লাগানোর মুল শর্ত।
আরো পড়ুনঃ সকালে খালি পেটে কিসমিস খাওয়ার নিয়ম
এছাড়াও ডায়াবেটিসের কারণে তৈরি হওয়া ত্বকের শুষ্কতা ক্ষতো শুকাতে দেরি হওয়া
বা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতেও অ্যালোভেরা জেল প্রয়োগ করা যেতে পারে। এর অ্যান্টি
মাইক্রোবিয়াল ও ঘাত পুরণের গুণ এখানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তবে অভ্যন্তরীণ
ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বদা বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা অতীব জরুরি এবং বাণিজ্যিকভাবে
প্রাপ্ত পানি এর ক্ষেত্রে চিনির মাত্রা সম্পর্কে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।
অ্যালোভেরার প্রত্যেকটি গুণাবলী ও উপকারিতা পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়ার জন্য এর
ব্যবহার হতে হবে জ্ঞান ও সর্তকতা ভিত্তিক।
মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় অবদান
অ্যালোভেরার এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ও এনটি ইনফ্লেমেটরি গুণাবলী মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় খুবই কার্যকর। মুখের যত্নে এটি একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। নিয়মিত অ্যালোভেরা জেল দিয়ে মাউথ ওয়াশ তৈরি করে ব্যবহার করলে মারীর রক্ত পড়া, মারী ফুলে যাওয়া, মারি ব্যথা এবং দাঁতের খত কমাতে সাহায্য করে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে যে এলোভেরা ভিত্তিক মাউথ ওয়াশ ক্লোর হেক্সিডিনের মতো রাসায়নিক মাউথ ওয়াশের মতোই এটি কার্যকরী কিন্তু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া খুবই কম।
মুখের ভেতরের ঘা বা ক্যান্সার এর জন্য অ্যালোভেরা জেল সরাসরি প্রয়োগ করলে দ্রুত ব্যথা কমে এবং ঘা শুকাতে সাহায্য করে থাকে। ঠোঁট ফাটা বা শুষ্কতার জন্য অ্যালোভেরা জেল একটি উত্তম প্রাকৃতিক বাম। এটি ঠোঁট নরম ও কোমল রাখতে সাহায্য করে থাকে। যাদের দাঁত ব্রাশ করতে গিয়ে মারি থেকে রক্ত পড়ার সমস্যা রয়েছে। তারা টুথপেস্ট এর সাথে অল্প পরিমাণে অ্যালোভেরা জেল নিয়ে টুথপেস্ট এর সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে মারি শক্ত হয় এবং সংবেদনশীলতা কমে যায়।
দাতের সৌন্দর্য রক্ষাও অ্যালোভেরার ভূমিকা রয়েছে। কিছু গবেষণা বলেছে অ্যালোভেরায়
থাকা অ্যান্থ কুইনন যৌগ দাঁতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে এটি
গিটিং এজেন্ট নয়। বরং দাঁতের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে থাকে।
মুখে দুর্গন্ধ দূর করতেও অ্যালোভেরা খুবই কার্যকরী। কারণ এটি মুখের ক্ষতিকর
ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। অ্যালোভেরার গুণাবলীকে কাজে লাগিয়ে আপনি
বাড়িতে তৈরি করতে পারেন একটি প্রাকৃতিক ও নিরাপদ মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি রুটিন।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করন
অ্যালোভেরা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যা অ্যালোভেরার গুণাবলী এবং উপকারিতা এর একটি মৌলিক দিক। এতে বিদ্যমান উচ্চমাত্রার এন্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং বি টা ক্যারোটিন শরীরে ক্ষতিকর কোষ গুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে। ক্ষতিকর কোষ হচ্ছে অনু যা কোষের ক্ষতি করে বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণ হতে পারে। এন্টিঅক্সিডেন্ট ছাড়াও এলোভেরাতে আছে অ্যাসেমাননান নামক একটি শক্তিশালী ইমিউনো মডুলেটরী যৌগ।
এটি শ্বেত রক্তকণিকার কার্যক্রম উদ্দীপিত করতে পারে। যা ভাইরাস বা সিরিয়ার বিরুদ্ধে শরীরে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা কে আরো শক্তিশালী করে। নিয়মিত ও পরিমিত অ্যালভেরার রস গ্রহন সর্দি-কাশি ও অন্যান্য সাধারণ সমস্যার বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাছাড়া এলোভেরা আন্টি ইনফ্লেমেটরি শরীরের কোন স্থানে প্রদাহ তৈরি হলে তাকে অতিরিক্ত বাড়তে দেয় না।
ইমিউনিটি সিস্টেমের উপর চাপ কমায়। শরীর যখন দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের মধ্যে থাকে
তখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। অ্যালোভেরা সেই প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে
রেখে ইমিউন সিস্টেমকে শুদ্ধ ও সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। তাই সামগ্রিকভাবে
বিবেচনা করলে দেখা যায় এটি শুধু নির্দিষ্ট রোগী সারায় না। বরং শরীরে নিজস্ব
যুদ্ধ করার ক্ষমতাকে শানিত করে।
হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সম্ভাব্য ভূমিকা
যদিও আরও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবুও প্রাথমিক কিছু গবেষণায় অ্যালোভেরার উপাদানের সাথে হৃদ শাস্ত্রের যোগসূত্র দেখিয়েছে। অ্যালোভেরা রক্তের লিপিড বা চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা যায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে অ্যালোভেরা গ্রহনে উচ্চমাত্রার এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাই গ্লিসারাইড এর মাত্রা কমতে পারে এবং ভালো কোলেস্ট্রল এর মাত্রা বাড়তে পারে। উচ্চ কোলেস্ট্রল হৃদরোগ ও স্ট্রোকের একটি বড় ঝুঁকি।
অ্যালোভেরায় উপস্থিত ফাইটো এস্টেরল নামক উপাদান শরীরে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দিতে পারে। এছাড়া এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি গুণ রক্ত নালির দেয়ালে প্লাগ জমা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। যা হৃদ রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও অ্যালোভেরার কিছু সম্ভাবনা দেখা গেছে। তবে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। যারা ইতিমধ্যেই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণ করছেন।
আরো পড়ুনঃ সকালে কাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা
তাদের জন্য অ্যালোভেরা প্রাকৃতিকভাবে নিরাপদ কিনা বা এটি ওষুধের সাথে কোন রিয়াকশন করবে কিনা সে বিষয়ে আগে ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিশ্চিত হতে হবে। হৃদযন্ত্রের জন্য অ্যালোভেরার গুণাবলী ও উপকারিতা কাজে লাগাতে হলে তা হতে হবে সচেতন ও চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে। এটি কোন ম্যাজিক বুলেট নয়। বরং একটি স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন ও সুষম খাদ্যের পাশাপাশি সহায়ক একটি প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
ক্যান্সার প্রতিরোধে এলোভেরার সহায়ক উপাদান
অ্যালোভেরা ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভাবনা নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে। অ্যালোভেরার গুণাবলী ও উপকারিতা এর মধ্যে এটি সম্ভবত সবচেয়ে আশা ব্যঞ্জন ও জটিল একটি ক্ষেত্র। অ্যালোভেরায় উপস্থিত কিছু যৌগ যেমন এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন পলিস্যাকারাইড ইমিউনি সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে, ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। কিছু ল্যাবরেটরি গবেষণায় দেখা গেছে অ্যালোভেরা এক্সট্র্যাক্ট কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে পারে।
এছাড়া কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপীর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কমাতেও অ্যালোভেরার জেল ব্যবহারের ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। অ্যালোভেরার গুনের ফলে ত্বকে যে জ্বালাপোড়া, রেস বা শুষ্কতা দেখা দেয়, সেখানে এলোভেরা জেল প্রয়োগ করলে তা উপশম হয়। তবে এটি মনে রাখা জরুরী যে ক্যান্সারের চিকিৎসার উপাদানটি অ্যালোভেরা দ্বারা প্রতিস্থাপিত নয়। এটি কেবল একটি সহায়ক বা উপশমকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।
কিছু গবেষণা সতর্ক করেই দিয়েছে যে অ্যালোভেরার লেটেক্স দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে তা বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে এবং পাকস্থলী বা বৃহদান্তরের ক্যান্সারের ঝুকি বাড়াতে পারে। তাই অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র বিশুদ্ধ জেল অংশটুকুই ব্যবহার করা উচিত এবং তা পরিমিত মাত্রায়। ক্যান্সার প্রতিরোধে অ্যালোভেরার গুণাবলী কে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অপরিহার্য ।
মহিলাদের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যে বিশেষ অবদান
অ্যালোভেরার গুণাবলী ও উপকারিতা মহিলাদের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক ও উপকারী। কারণ এটি পিরিয়ডের সময় তলপেটে ব্যথা ও ট্রাম্প হলে অ্যালোভেরার রস পান করলে প্রদাহ কমে যায় এবং ব্যথা হলে ব্যথা থেকে অ্যালোভেরা মাধ্যমে উপশম পাওয়া যায়। এর অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি গুণ এখানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তবে গর্ভাবস্থায় অ্যালোভেরা রস পান করা নিরাপদ কিনা সে বিষয়ে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা জরুরী। কারণ এটি জরায়ু সংকোচন ঘটাতে পারে। ব্রেস্ট ফিডিং করানোর সময় অনেক মহিলার বুকের চামড়ায় ফাটল বা জ্বালাপোড়ার সমস্যা দেখা দেয়।
সেই স্থানে এ্যালোভেরার বিশুদ্ধ জেল লাগালে দ্রুত সেরে ওঠে এবং জ্বালা ভাব কমে। পলি সিস্টিক ওভারি সিনড্রোম এর মত জনিত সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের ইনসুলিন রেসিস্টেন্স কমাতে অ্যালোভেরা সাহায্য করতে পারে। যা পলিসিস্টিক ম্যানেজমেন্ট এর একটি অংশ। যৌনাঙ্গের এলাকার জ্বালাপোড়া বা সমস্যাও অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে তা অবশ্যই অতিরিক্ত বিশুদ্ধ হতে হবে এবং কোন কাটা বা ঘা থাকলে ব্যবহার না করাই ভালো। এছাড়াও বয়সের সাথে সাথে ত্বকে যে বলিরেখা পড়ে তা প্রতিরোধে এলোভেরার ভূমিকা খুবই গুরত্তপূর্ণ।
অ্যালোভেরার কোলাজেন উৎপাদনে ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও চুলের যত্ন, ব্রণ দূরীকরণসহ নানাবিধ সৌন্দর্য চর্চায় অ্যালোভেরা মহিলাদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্রাকৃতিক বন্ধু। তাই অ্যালোভেরার গুণাবলী ও উপকারিতা মহিলাদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিককে সুন্দর ও সুস্থ করতে পারে। এছাড়াও ত্বকের বিভিন্ন যত্নে অ্যালোভেরা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ত্বক ফর্সা করতে, ত্বকের তৈলাক্ত দূর করতে, ব্রণের দাগ দূর করতে অ্যালোভেরার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খুবই কার্যকরী।
নিরাপদ ব্যবহার সতর্কতা ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
অ্যালোভেরার ১৫ টি গুণাবলী ও উপকারিতা পূর্ণাঙ্গভাবে ভোগ করার পূর্বে এর নিরাপদ ব্যবহার বিধি সতর্কতা ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা অত্যাবশ্যক। প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক অ্যালোভেরার কোন অংশ ব্যবহার করা উচিত এবং কোন অংশটি ব্যবহার করা উচিত নয়। পাতার সবচেয়ে ভিতরে স্বচ্ছ জেলটুকুই হলো ব্যবহারযোগ্য অংশ। এর ঠিক নিচে থাকে হলুদ রঙের ল্যাট্রিক্স। যা আলোয়্যিন সমৃদ্ধ এই ল্যাটিক্স অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণে পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, কিডনির সমস্যা ও ক্যান্সারের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
তাই জেল সংগ্রহ করার সময় এই অংশ সম্পূর্ণরূপে ফেলে দিতে হবে। অ্যালোভেরা ব্যবহারে কিছু সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যাদের এলোভেরাতে এলার্জি রয়েছে। তাদের ত্বকে চুলকানি, লাল দাগ বা ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। অ্যালোভেরা গ্রহণের ক্ষেত্রে শুরুতেই বেশি মাত্রা নিলে পেট খারাপ হতে পারে। গর্ভবতী বা স্তন্যদান কারী মায়েদের জন্য বিশেষ করে অ্যালোভেরার রস পান করা এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এটি জরায়ু সংকোচন ঘটাতে পারে। যারা ডায়াবেটিস হৃদরোগ বা কিডনি রোগের ওষুধ গ্রহণ করছেন।
আরো পড়ুনঃ রাতে মুখে মধু মাখার উপকারিতা
তাদের এলোভেরা সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে ডাক্তারের অনুমতি অবশ্যই নিতে হবে। কারণ এটি ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের ত্বকে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে। বাড়ির চেয়ে বাজার থেকে কেনা বিশুদ্ধ ও প্রক্রিয়াজাত এলোভেরা জেল অনেক সময় বেশি নিরাপদ। কারন সেখানে লেটক্স আলাদা করা থাকে। অ্যালোভেরার উপকারিতা প্রকৃত অর্থে পাওয়ার চাবিকাঠি হল জ্ঞান, পরিমিতি ও সর্তকতা।
শেষ কথাঃ অ্যালোভেরার ১৫ টি গুণাবলী ও উপকারিতা
অ্যালোভেরার ১৫ টি গুণাবলী ও উপকারিতা কেবল একটি তালিকায় নয়। এটি হল সুস্থ ও প্রাকৃতিক জীবনের পথে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা। এই লেখাটি পড়ার পর আপনার বারান্দার সেই অবহেলিত সবুজ গাছের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে নিশ্চিত। এখন আপনি জানেন এই পাতার মধ্যে লুকিয়ে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর ভান্ডার, দৈবনাশকের শক্তি এবং ত্বক ও চুলের সেরা বন্ধু। তবে এই জ্ঞানকে কাজে লাগাতে হবে বুদ্ধিমত্তার সাথে। মনে রাখবেন অ্যালোভেরা একটি শক্তিশালী উদ্ভিদ।
এর লেটক্স উপাদানটি যেমন ওষুধের কাজ করে, তেমনি ভুল ব্যবহারে ক্ষতির কারণও হতে পারে। তাই বাড়িতে ব্যবহারের সময় শুধুমাত্র স্বচ্ছ অংশটুকু সংগ্রহ করবেন বাকি অংশ এড়িয়ে চলবেন। আপনার দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তুলবে অ্যালোভেরার সকল গুণাবলী। যদিও আপনি এটিকে হাতের নাগালের একটি সহজ, কিন্তু শক্তিশালী মিত্র হিসেবে গণ্য করেন। প্রকৃতির এই অফুরান দান কে সম্মান করুন। জেনে বুঝে ব্যবহার করুন এবং সুস্থতার অনন্ত যাত্রায় আপনিও হয়ে উঠুন অ্যালোভেরার মতোই মজবুত ও প্রাণবন্ত।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url